গঙ্গাচড়ায় থামছে না তিস্তার তাণ্ডব, নদীগর্ভে বাড়িঘর ও কৃষিজমি


আব্দুল বারী দুলাল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ ৭৩
গঙ্গাচড়ায় থামছে না তিস্তার তাণ্ডব, নদীগর্ভে বাড়িঘর ও কৃষিজমি

গঙ্গাচড়ায় থামছে না তিস্তার তাণ্ডব, নদীগর্ভে বাড়িঘর ও কৃষিজমি। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভাঙনে মোতালেব, সুরুজ, আনোয়ারসহ অন্তত ৮টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও তিস্তার গর্ভে হারিয়ে গেছে। পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে অনেক বাড়ির আঙিনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভাঙন বসতঘরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ ইট-কাঠ ও অন্যান্য মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে গৃহস্থালির জিনিসপত্র নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাঙনের তীব্রতা কমেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোতালেব বলেন, “চোখের সামনে আমার বাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের সঞ্চয় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, জানি না।”

সুরুজ মিয়া বলেন, “ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা এখন অসহায়। সরকার যদি দ্রুত সাহায্যের হাত না বাড়ায়, তাহলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।”

 

আনোয়ার হোসেন বলেন, “নদী আমার ঘর, জমি—সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।”

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, “ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতি হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি জানার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “ভাঙনের খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হবে।”

এদিকে এলাকাবাসীরা দাবি জানান, দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক। অন্যথায় কাচাড়িপাড়ার আরও অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তিস্তার ভয়াল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১