ইতালিসহ ইউরোপে চাকরির সুযোগ, বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ পাবেন ৩ হাজার বাংলাদেশি


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ ১৯
ইতালিসহ ইউরোপে চাকরির সুযোগ, বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ পাবেন ৩ হাজার বাংলাদেশি

ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ৩ হাজার বাংলাদেশিকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ পাইলট প্রকল্পের আওতায় কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পটির আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে যোগ্যতা অর্জনকারী কর্মীরা ইউরোপে চাকরির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেই চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আইএলও। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক হাজার কর্মীর প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সোহানা সামরিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে দক্ষ কর্মী পাঠানোর জন্য একটি টেকসই ও নিয়মিত অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার কর্মীকে নিয়ে প্রকল্পের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকার যাতে নিজস্ব অর্থায়নে এ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে, সে সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

আবেদন করতে পারবেন কারা

প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের জন্য ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের অন্তত এসএসসি বা এইচএসসি, সমমানের কারিগরি শিক্ষা, চার বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা অথবা স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রাথমিক কারিগরি দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। পেশার ধরন অনুযায়ী জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরের সনদও প্রয়োজন হতে পারে।

আগ্রহী প্রার্থীদের সরকারি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

যেসব পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে

প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০টি সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খুলনা ও সিলেটের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার এবং ইউসেপ-বাংলাদেশসহ কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা, পর্যটন ও আতিথেয়তা, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল খাতের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগের কৌশল, যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার, শ্রমিকের অধিকার এবং ইউরোপের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আগে থেকেই দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন কর্মীদের আরও দক্ষ করে তোলাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। আনুষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও অভিজ্ঞ কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশিক্ষণে লাগবে না কোনো ফি

প্রকল্পের আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ, ইতালীয় ভাষা শিক্ষা ও বিদেশযাত্রার আগের প্রস্তুতির জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো ফি দিতে হবে না। প্রশিক্ষণ চলাকালে দুপুরের খাবার দেওয়া হয় অথবা এর পরিবর্তে মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

তবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমানের টিকিট, বীমা ও অন্যান্য খরচ কে বহন করবেন, তা নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণ শেষে কীভাবে মিলবে চাকরি

প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তথ্য সরকারি ওইপি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হতে পারে। অনুমোদিত বিদেশি নিয়োগকর্তারা সেখান থেকে উপযুক্ত কর্মী বাছাই করে সাক্ষাৎকার ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারবেন।

নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীকে কাজের অনুমতি ও ভিসার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তাই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বা সনদ অর্জনকে বিদেশে চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো কালের কণ্ঠকে বলেন, ইতালির নতুন অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর ধারার আওতায় বাংলাদেশে কর্মীদের প্রাক্‌-যাত্রা প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ইতালির নিয়োগকর্তারা বহন করছেন।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতালিতে রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা, নির্মাণ, বস্ত্র, যন্ত্রকৌশল, বিদ্যুৎ এবং ওয়েল্ডিং খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে।

 

ই-প্রিন্ট

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১