কক্সবাজার থেকে সাইকেলে ৩৮ দিনে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে কাপ্তাইয়ের বীর কুমার তনচংগ্যা


বিজয় ধর, রাঙামাটি প্রকাশের সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ ৩২
কক্সবাজার থেকে সাইকেলে ৩৮ দিনে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে কাপ্তাইয়ের বীর কুমার তনচংগ্যা

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করে ৩৮ দিন পর নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের সাইক্লিস্ট ও অভিযাত্রী বীর কুমার তনচংগ্যা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি।

বীর কুমারের দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থলপথে সাইকেলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশি ও প্রথম আদিবাসী সাইক্লিস্ট তিনি।

‘সি টু হিমালয়াস—এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শিরোনামে এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত ১৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে কক্সবাজারের কবিতা চত্বর বিচ থেকে। প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযানের সূচনা করেন বীর কুমার। এরপর বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পৌঁছে শুরু করেন হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি পথে মূল অভিযান।

৩৮ দিনের এ যাত্রায় সমতল থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। মোকাবিলা করতে হয়েছে বৃষ্টি, ঝড়, ঠান্ডা, উচ্চতার পরিবর্তন এবং শারীরিক-মানসিক নানা চাপ। প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিদিনের অভিযানের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগে হিমালয়ের তিনটি দুর্গম চূড়া ও গিরিপথ অতিক্রম করেন বীর কুমার। ১৮ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৮৩ মিটার উচ্চতার নাংকার্তশাং পিক সামিট করেন। ওই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চূড়ায় পৌঁছান তিনি। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫৫০ মিটার উচ্চতার ছুকুং রি পিক সামিট করেন। সেখানে পৌঁছান বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে।

এরপর ২১ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাস অতিক্রম করেন বীর কুমার। সেদিন দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে পাসটিতে পৌঁছানোর পরদিনই তিনি চূড়ান্ত গন্তব্য এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান।

তবে এই অভিযানের লক্ষ্য শুধু হিমালয়ের দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া নয়। রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরাও ছিল অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনা তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।

বীর কুমার বলেন, ‘স্বপ্ন বড় হলে পথ যত কঠিনই হোক, থেমে যাওয়া যায় না।’

তিনি জানান, অভিযানের প্রতিটি ধাপেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দীর্ঘ পথ, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল এবং শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলে এগিয়ে যেতে হয়েছে। দেশের মানুষের শুভকামনা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছে বীর কুমার বলেন, এই অর্জন শুধু তাঁর একার নয়। দীর্ঘ অভিযাত্রায় যাঁরা সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। সামনে থাকা লক্ষ্যগুলো পূরণ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান তিনি।

সাইকেল অভিযানে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বীর কুমারের। এর আগে তিনি সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন। দেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়াও সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন। ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি।

কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর কুমার কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাবান্ধা ও শিলিগুড়ি হয়ে নেপালের দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন বীর কুমার। দুই চাকার সাইকেলে ৩৮ দিনের এই অভিযাত্রা তাঁর দীর্ঘ অভিযাত্রী জীবনে যোগ করেছে নতুন এক অধ্যায়।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০