
রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে ডেভেলাপার কোম্পানি, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট ডিশ ব্যবসা, গার্মেন্টস কিংবা খাতুনগঞ্জের আড়তদার, সবার কাছে যেন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ডেভিড ইমন। বিদেশী নম্বর থেকে ফোনে দাবি করা হয় চাঁদা, না দিলে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা, এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাতেও পিছপা হয় না ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী সন্ত্রাসীরা।
নগর জুড়ে সন্ত্রাসের এই আধিপত্য গড়ে তুলতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাকে। সারোয়ার বাবলা, ঢাকাইয়া আকবরের মতো পথের কাঁটা সরাতে হত্যা করতে হয়েছে একাধিক প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীকেও। পুলিশের খাতায় ডেভিড ইমন এখন টপ ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের আন্ডার ওয়ার্ল্ডে ডেভিড ইমনের নাম আলোচিত হয় ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে। শুরুতে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের কয়েক সহযোগীর একজন হিসেবে নাম উঠে এলেও ধীরে ধীরে একক ক্যাডার হিসেবে জানান দেয় ডেভিড ইমন। যদিও বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবেই এখনো পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ডেভিড ইমন।
এরপর, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ নগরীর বাকলিয়া এলাকার এক্সেস রোডে জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আরেক সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ অন্তত: সাতটি ফৌজদারি মামলার আসামি তিনি।
যশোর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোর ও কোতোয়ালি মডেল থানা যশোর এর ৯টি টিম এর যৌথ অভিযানে কোতোয়ালি থানাধীন ঝুমঝুমপর এলাকা হতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অধিযাচন পত্রে মুলে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫)-কে অপর ৩ জন সহযোগীসহ আটক করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, ডেভিড ইমন তার সহযোগীসহ একটি কালো রং এর প্রাইভেট কার ঢাকা মেট্রো -ঘ-১৫-৩৫৯০ যোগে যশোর বেনাপোল সীমান্ত হয়ে ভরতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো। পরবর্তীতে আজ ২৯ জুলাই ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর আইনগত ব্যবস্থার জন্য জেলা পুলিশ চট্টগ্রামের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
আটককৃতরা হলো, মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), পিতা: মৃত মো: মুসা, মাতা: মমতাজ বেগম, সাং-কাঞ্চনগর, গুরামিয়া হাজী চৌধুরী বাড়ি, ৭নং কাঞ্চনগর ইউপি, থানা-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম।
২য় আসামী হলো, আল ইসলাম আলিফ তমাল (২৫), পিতা: মো: জাফর, মাতা: তাহমিনা বেগম, সাং- ২২৭/৩ পরি মোল্লারবাগ, জুরাইন, পোস্তাগোলা, থানা: শ্যামপুর, ঢাকা।
৩য় আসামী হলো, মো: শামিম (২৮), পিতা: মৃত আব্দুল মান্নান, মাতা: খোরশেদা বেগম, সাং- মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা, এপি/- ৯১/১/এ আরকে মিশন রোড, থানা: মতিঝিল, ঢাকা।
৪র্থ আসামী হলো, মো: সাফায়েত হোসেন (২৮), পিতা: মৃত মো: বেলায়েত হোসেন, মাতা: মোছা: লিলি বেগম, সাং- সাহারপাড়, থানা: সোনাইমুড়ি, জেলা: নোয়াখালী, এপি/- ২৫/ই নাহারভিলা, গোলাপবাগ পুলিশ কোয়ার্টারের পেছনে, থানা: যাত্রাবাড়ী, জেলা: ঢাকা।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :