নেত্রকোণার পূর্বধলায় অধিক মুনাফার কচুর বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১ মে, ২০২৪, ২:৫২ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণার পূর্বধলায় অধিক মুনাফার কচুর বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু

রাকিবুল ইসলাম লিমন,নেত্রকোণা:নেত্রকোণার পূর্বধলায় কন্দাল ফসল উন্নয়ন সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকরা।

পূর্বধলায় কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও উদ্বুদ্ধ হয়ে বাণিজ্যিক ভাবে কচু চাষাবাদে সফল হচ্ছেন কৃষকরা আর কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প সহায়তার মাধ্যমে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

পূর্বধলা উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের জুগির গোহা গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান ও কৃষক রতন ফকির নিজেদের ১একর জায়গায় লতি কচু চাষ করেন পরে উপজেলা কৃষি অফিস কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্লাস্টার আকারে প্রদর্শনী সহায়তা প্রদান করে।
কৃষি বিভাগের সহায়তা পেয়ে বাৎসরিক প্রতি একর ৪০০০০ হাজার টাকায় ভাড়ায় ৪ একর জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন।

শুরুতে নিজস্ব এবং লীজ নেয়া জমিতে নিজের ক্রয়কৃত ও কৃষি বিভাগের সরবরাহকৃত যশোর থেকে ৩৫০০ টি বারি লতিকচু ১ কিনে এনে চাষাবাদ শুরু করেন।

রাসায়নিক সার ও পরিচর্যা বাবদ এখন পর্যন্ত চাষীর সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা খরচ হলেও প্রায় ২০ লক্ষধিক টাকা বিক্রি আসবে বলে কৃষক আশাবাদী। কচু চাষে এমন সফলতায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বর্তমানে এই প্রকল্পে প্রায় এক লক্ষ ৭৫ হাজার লতি কচুর চারা রয়েছে। যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ মণ কচুর লতি বিক্রি করে আসছেন। এখন পর্যন্ত ৬,২৫০০০ টাকার লতি বিক্রি হয়েছে, আরও তিন মাস লতি বিক্রি করতে পারবেন আশা করছেন কৃষকরা।

এছাড়াও প্রকল্পে চারা উৎপাদন হবে তিন লক্ষ যা বীজের জন্য রেখে বাকী ১৫০০০০ চারা বিক্রি করতে পারবেন।

প্রকল্পে ১৫ জন শ্রমিক গত চার মাস যাবত দৈনিক ৫০০টাকা ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক আব্দুল মান্নান ও রতন ফকির জানান
কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কচু চাষ করে লাভবান হচ্ছি, আমদের সফলতা দেখে অন্যরাও উাৎসাহিত হচ্ছে কচু চাষে।

প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা জানান দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করে আমরা পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে চলতে পারছি।

পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবীর বলেন কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রকল্প সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি, কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জনান এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষকদেরকে সহায়তার মাধ্যমে লাভ জনক কৃষি পণ্য উৎপাদনে উদ্ধুদ্ধ করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কৃষির ভুমিকা বৃদ্ধি করবে কৃষি বিভাগ এমনটাই প্রত্যাশা প্রান্তিক কৃষকদের।

আর্কাইভ