চুয়াডাঙ্গায় প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ


শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০২৬, ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নিউ ডিজিটাল প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড শোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা ও অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কোনো অভিজ্ঞ ও নিবন্ধিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত না থাকলেও প্রায় চার মাস আগে চাকরি ছেড়ে যাওয়া টেকনোলজিস্ট মেহেদী হাসানের নাম, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষানিরীক্ষা করিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ভুল রিপোর্ট প্রদান ও প্রতারণার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক টেকনোলজিস্ট মেহেদী হাসান প্রায় চার মাস আগে চাকরি ছেড়ে গেলেও এখনো তাঁর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, তিনি বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন। তাঁর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে রিপোর্ট দেওয়া হলে তা আইনগত অপরাধ।

সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টের পরিবর্তে অদক্ষ কর্মী দিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর কারণে ভুল রিপোর্টের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, প্যাথলজি পরিচালনার জন্য বৈধ কাগজপত্র ও নিবন্ধিত প্যাথলজিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। কারও সিল-স্বাক্ষর জাল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। নিয়ম বহির্ভূত কাজ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হতে পারে।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য প্যাথলজিস্ট ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রাইভেট ক্লিনিক নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১