কুলাউড়ায় বেকারত্বের ভয়াবহ রূপ : কাজ না পেয়ে তরুণদের হাহাকার, নির্বিকার জনপ্রতিনিধিরা
মোঃ আব্দুল কালাম মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বেকারত্ব এখন এক নীরব মহামারি। হাজার হাজার শিক্ষিত ও কর্মক্ষম তরুণ-তরুণী দিন পার করছেন চরম হতাশায়। কর্মসংস্থানের তীব্র সংকটে উপজেলা জুড়ে বাড়ছে শুধু হাহাকার। বিগত এক সপ্তাহের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে স্থানীয় তরুণদের কর্মহীনতার এক করুণ চিত্র। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে দৃশ্যমান কোনো সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ নেই।
এক পদের বিপরীতে শত শত আবেদন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি সাধারণ চিত্র বিশ্লেষণ করলেই কুলাউড়ার বেকারত্বের গভীরতা স্পষ্ট হয়। সম্প্রতি ফেসবুকে কুলাউড়া কেন্দ্রিক কোনো চাকরির একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলে, তাতে জমা পড়ছে শত শত শিক্ষিত যুবকের আবেদন। সামান্য বেতনের চাকরির জন্য গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করা তরুণদের এই প্রতিযোগিতা প্রমাণ করে, এলাকায় কাজের অভাব কতটা প্রকট।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এবং ভুক্তভোগী বেকার যুবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভাবের কারণে অনেক পরিবারে এখন অশান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন শত শত তরুণ ঘুরছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়চণ্ডী ও বরমচাল ইউনিয়নের কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত যুবক জানান, “আমরা কারও দয়া চাই না, আমরা কাজ করে স্বাবলম্বী হতে চাই। কিন্তু পুরো উপজেলায় নতুন কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না।”
কুলাউড়ায় যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলার জন্য পর্যাপ্ত কোনো কারিগরি বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেই। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নামমাত্র কিছু কর্মসূচি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি বা কোনো বিশেষায়িত কাজের প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় তরুণরা যুগের দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন।
অনুসন্ধানে স্থানীয় তরুণদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ দেখা গেছে জনপ্রতিনিধিদের ওপর। ১৩টি ইউনিয়নের বেকার যুবকদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা (ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য) যুবসমাজের এই সংকট নিরসনে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। নির্বাচন এলে কর্মসংস্থানের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, জয়ের পর বেকারদের ভাগ্যোন্নয়নে বা এলাকায় ক্ষুদ্র শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
বিশেষজ্ঞ এবং সমাজকর্মীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্ব তরুণ সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। কর্মহীন অলস মস্তিস্কের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কুলাউড়ার এই বিশাল কর্মক্ষম যুবশক্তিকে দ্রুত কাজে লাগানো না গেলে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে কুলাউড়ায় দৃশ্যমান কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করা হোক। একই সাথে প্রতিটি ইউনিয়নে যুবকদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :