
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা।
কানিজা আফরোজের অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানতে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে গালাগাল করেন।
পরে ওই ব্যক্তিরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। তিনি আগে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার বিষয়ে তথ্য নিতে চাইলে তাঁকে জোর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন কানিজা।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন প্লাস্টিকের পাইপ ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার সময় মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।
কানিজা আফরোজ বলেন, ‘আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তাঁরা রোগী ও স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন, হাসপাতালের কোনো কর্মচারী ঘটনাস্থলে না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় কথিত দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহত নারী আইনি ব্যবস্থা নিলে তাঁকে সহায়তা করা হবে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসেন বলেন, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :