পদ্মা ব্যারেজ হলে ২৪ জেলার মানুষ সুফল পাবেন: কুষ্টিয়ায় মন্ত্রী এ্যানি


সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ ৬৯
পদ্মা ব্যারেজ হলে ২৪ জেলার মানুষ সুফল পাবেন: কুষ্টিয়ায় মন্ত্রী এ্যানি

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আশপাশের ১৯ জেলার উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পদ্মা-গড়াই মোহনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। ২০০৪ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ২০২৬ সালে এসে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিনে এসে মেগা প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা ব্যারেজের সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষি কার্যক্রমে গতি আসবে এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

মন্ত্রী বলেন, নদীর প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি ঠিক না থাকায় অনেক সময় নদীতীরের বাঁধ ভেঙে বসতবাড়ি, বাজারসহ বিভিন্ন জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে গেলে খালসহ সংযুক্ত জলপ্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে কৃষি ও সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রকল্পের অবকাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, মূল পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা নদী ও গড়াইয়ের সংযোগস্থলে একটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে, যেটিকে গড়াই অফটেক বলা হচ্ছে। সেখানে মাছের চলাচলের জন্য ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গেট ও আন্ডার স্লুইস থাকবে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষকে প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। খুব শিগগিরই এলাকায় প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ। দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দৌলতপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব রউফ চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০