কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া বৃহত্তর মুসলিমনগরে মাদক সেবন ও বিক্রয় প্রতিরোধ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


এম এস শবনম শাহীন প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ ৯৩
কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া বৃহত্তর মুসলিমনগরে মাদক সেবন ও বিক্রয় প্রতিরোধ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকিতে পরিণত হওয়া মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব চুনকুটিয়া মুহুরীপট্টি বৃহত্তর মুসলিমনগর এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক ব্যাপক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াল থাবায় আজ শুধু ব্যক্তি নয়, অসংখ্য পরিবার বিপর্যস্ত হচ্ছে; ধ্বংস হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, নষ্ট হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধন। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত উদ্যোগ। বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা যত শক্তিশালী হবে, ততই মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে এবং একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে। এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ, তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও কেরানীগঞ্জ শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুব আলম মামুন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের কোনোভাবেই সামাজিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়াতে হবে এবং মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাই তাদেরকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গোপন না রেখে প্রশাসনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে।

‎মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মো. আল-আমীন। ‎তিনি বলেন, মাদক মানবতার শত্রু এবং এটি মানুষের নৈতিকতা, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের জীবনই নয়, তার পরিবার ও সমাজকেও চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। তাই মাদক প্রতিরোধে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে সোচ্চার হতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং তাদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও জীবনযাপনের প্রতি নিয়মিত নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করা, নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং মাদক থেকে দূরে রাখা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধই পারে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে ছিলেন মো. ওমর ফারুক কাঞ্চন, আলমাছ শেখ, ডা. জামান, আরিফ সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় বক্তারা মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক নজরদারি জোরদার, তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

‎মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, মাদক নির্মূল কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই পারে মাদকের বিস্তার রোধ করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ উপহার দিতে।

‎বক্তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক, তরুণদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা এবং সমাজের সর্বস্তরে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত সকলেই একটি মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক কেরানীগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১