
অন্যদিকে, বছরের প্রথম সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
আসকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে আসক। আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনাও সংগঠনটির হিসাবে রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে আসক।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাবনায় ১০ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি। দুই দিন পর সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর, রংপুর, মাদারীপুর ও সুনামগঞ্জে পৃথক ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে ওই সময়ের হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং শিশুবান্ধব সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউনিসেফ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আপনার মতামত লিখুন :