ভারত সফরে আসছেন শি চিনপিং, যোগ দেবেন ব্রিকস সম্মেলনে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ ৭৯
ভারত সফরে আসছেন শি চিনপিং, যোগ দেবেন ব্রিকস সম্মেলনে

কয়েক দিনের কূটনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সফর করবেন তিনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শি চিনপিং নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) শি চিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে তার কাছে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই। পরে চীনা সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সফর নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

সাত বছর পর ভারত সফর

শি চিনপিংয়ের এবারের ভারত সফরকে নয়াদিল্লি-বেইজিং সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারতে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে পড়ে। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীনা সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও কয়েকজন চীনা সেনা নিহত হওয়ার তথ্য পরে সামনে আসে।

২০১৯ সালে শি চিনপিং চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিতে ভারত সফর করেছিলেন। এর আগে ২০১৪ সালে মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেন শি। ২০১৬ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

ধীরে ধীরে কমছে উত্তেজনা

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে এগিয়েছে। বিশেষ করে গত বছর মোদির চীন সফরের পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত ও চীনের সম্পর্কেও বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, তার কিছু ধীরে ধীরে শিথিল করা হয়েছে। ইলেকট্রনিকস, মূলধনী পণ্য ও সৌরকোষসহ কয়েকটি খাতে এ পরিবর্তন দেখা গেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শি চিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, ভারত ও চীন পরস্পরের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’। দুই দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে একে অপরকে হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত বলেও তারা মনে করেন।

চলতি মাসে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক ফোরামেও শি ও মোদির সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। ওই বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।

বাড়ছে বাণিজ্য, থাকছে কৌশলগত টানাপোড়েন

সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়লেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পুরোপুরি বাধামুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভারতে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংও এখন আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক উৎপাদন ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগে এ নজরদারি বেশি।

তবে এর মধ্যেও ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। চীনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক দশক আগে এ বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক দশকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও বাণিজ্য বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ভারত-চীন বাণিজ্য আরও ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

ফলে সীমান্ত ও কৌশলগত মতপার্থক্য অব্যাহত থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুই দেশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে শি চিনপিংয়ের আসন্ন ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০