
১৮ মে (সোমবার) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক টেন্ডার প্রকাশ করা হলে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে হাটের ইজারা ভাগবাটোয়ারা করার ফলে গত বছর উপজেলা প্রশাসনের হাটগুলো থেকে রেকর্ড পরিমান রাজস্ব আয় হলেও তবে চলতি বছর হাট ইজারায় আয়ে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে।
জানাযায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঈদুল আযহার আগে কোরবানীর পশুর ৮টি অস্থায়ী হাট বসে। কেরানীগঞ্জসহ রাজধানীর অসংখ্য মানুষজন এখান থেকে পশু কিনেন। এতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই উপজেলার বড় একটি রাজস্ব আয়ের উৎস হয়ে উঠেছিল হাটগুলো। ২০২৫ সালে অস্থায়ী পশুর হাট থেকে যেখানে উপজেলা প্রশাসন ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, সেখানে একই হাটগুলো থেকে উপজেলা প্রশাসনের রাজস্ব আদায় মাত্র : ১ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
দেখাযায়, ২০২৫ সালে কেরানীগঞ্জের আগানগরের আমবাগিচা হাটটি ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় ইজারা নেন আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরসাদ রহমান সপু। এবার এই হাটটি ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় ইজারা নেন স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী আনোয়ার হোসেন।
২০২৫ সালে জিনজিরা বাজার অস্থায়ী পশুর হাটটি ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ইজারা নেন দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোযাদ্দেদ আলী বাবু। এবারো মোযাদ্দেদ আলী বাবুই হাটটি ইজারা নিয়েছেন। তবে এবার হাটটি পেতে তাকে খরচ করতে হয়েছে গত বছরেরর অর্ধেক ৭ লাখ টাকায়।
শুভাঢ্যা ইউনিয়নের হাসনাবাদ অস্থায়ী গরুর হাটটি গত বছর বিএনপি নেতা সেলিম মেম্বার ইজারা নিয়েছিলেন ৬১ লাখ টাকায় । একই হাট সেলিম মেম্বার এবার ইজারা পেয়েছেন ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকায়।
মডেল থানাধীন মিলিনিয়াম সিটির হাটটি গত বছর নতুন শুরু হয়। গত বছর এই হাটটি এনসিপি নেতা বকুল ৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকায় ইজারা
নেয়। এই হাটটি এবার বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা নেন ৷
এ ছাড়া রাজাবড়ী হাট ৩০ হাজার টাকায়, রসুলপুর হাট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় এবং খাড়াকান্দি হাট ২ লাখ টাকায় গত বছর ইজরা দেওয়া হলেও এবছর দড়পত্রের অর্ধেক মূল্যেও কেও টেন্ডার ড্রপ করে নি। ধারনা করা হচ্ছে টেন্ডার না পাওয়া এই হাটগুলো থেকে সমঝোতোর মাধ্যমে নাম মাত্র খাজনা আদায় করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে অস্থায়ী পশুর হাট থেকে যেখানে উপজেলা প্রশাসন ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, সেখানে একই হাটগুলো থেকে উপজেলা প্রশাসনের রাজস্ব আদায় মাত্র : ১ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর সরকার ২ কোটি ১০ লাখ টাকা শুধু মাত্র কেরানীগঞ্জ থেকেই রাজস্ব হারিয়েছে।
এনসিপির স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয় কেও যেন দরপত্র কিনতে না পারে সেই জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা গত কয়েকদিন দল বেধে উপজেলা পরিষদে অবস্থান করেন। এমনকি গত দুই দিন আগে এনসিপি নেতারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন একটি হাটের টেন্ডার সিডিউল কিনতে উপজেলা প্রাঙ্গনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাদের ওপর হামলা করে।
এনসিপির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, এই হামলার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অবগত ছিলো এমনকি উপজেলা প্রাঙ্গনে এমন হামলা চালানো হলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। যদিও হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পূর্বে আওয়ামী লীগ নেতারা একই কায়দায় নামমাত্র মূল্যে হাটগুলো ইজারা নিতো। সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হলেও তখন মাত্র দুই এক নেতার পকেট ভারি হতো। ২৪ এর অভুত্থ্যানের পরে ১৬ বছর পরে কেরানীগঞ্জে উন্মুক্ত টেন্ডারে কেরানীগঞ্জে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ইজারা হয়। তবে এই বছর আবারো সেই পুরোনো ধারায় ফিরে যাওয়া হলো। এতে করে সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব হারালো। সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারালেও গুটি কয়েক নেতার পকেট ভারি হয়েছে বলে জানান তারা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হাটের ইজারা মূল্য নিয়ে কেরাণীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার উমর ফারুকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা কোন ঘাটতি ছিলো না। হাটের ইজারা গত বছরের চেয়ে কম কেন কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, টেন্ডার সিডিউল যারা সর্বোচ্চ ফেলেছে তারাই পেয়েছে।
হাট ইজারা নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :