
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জগদল ফারাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত ও হেনস্তা করে আসছিল শিবরামপুর গ্রামের মো: আলম হোসেনের ছেলে বখাটে মো: তাকমিম হোসেন (২২)। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর পিতা মো: আনোয়ার হোসেন (৪৮) আগেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৪ জুলাই (শনিবার) সকাল আনুমানিক ১০:৫০ ঘটিকায় ওই ছাত্রী মাঠ থেকে ছাগল বেঁধে বাড়ি ফেরার পথে বখাটে তাকমিম তার হাত ধরে টানাটানি ও শ্লীলতাহানি করে। ছাত্রীর চিৎকারে আসেপাশের লোকজন ছুটে এলে বখাটে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে বখাটে তাকমিম হোসেনসহ আরও দুজন সংঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ছাত্রীর মা, ছোট ভাই এবং স্বয়ং ভিকটিমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
পুলিশ সুপারের কড়া নির্দেশ, মধ্যরাতে ঝটিকা অভিযান
মারধরের ঘটনাটি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে আসলে তিনি ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনা পাওয়ামাত্রই ধামইরহাট থানা পুলিশ গভীর রাতে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার প্রধান আসামি মো: তাকমিম হোসেন (২২) সহ হামলায় জড়িত অপর দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
“নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অপরাধের ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”
— জেলা পুলিশ প্রশাসন, নওগাঁ
ধামইরহাট থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁর আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :