
শিকাগোর সেই ভাষণে বিবেকানন্দ ধর্মকে বিভেদের কারণ হিসেবে না দেখে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের প্রতি সম্মান দেখানো এবং পরস্পরের বিশ্বাসকে বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
এক শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের বাস্তবতা খুব বেশি বদলায়নি। ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতিগত সংঘাত, রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক অসহিষ্ণুতা এখনো মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে বড় বাধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারও অনেক ক্ষেত্রে বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিবেকানন্দের দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষকে আগে মানুষ হিসেবে দেখা। ধর্ম বা পরিচয়ের পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মর্যাদা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর চিন্তার মূল সুরগুলোর একটি।
তরুণ সমাজ নিয়েও তাঁর ভাবনা ছিল গভীর। তিনি বিশ্বাস করতেন, আত্মবিশ্বাসী, চরিত্রবান ও দায়িত্বশীল তরুণরাই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। তাঁর কাছে শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের বিষয় ছিল না; শিক্ষা মানুষের ভেতরের শক্তি, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার মাধ্যম।
বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত ঘটলেও মানুষের মধ্যে বিভাজনও বাড়ছে। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
শিকাগো ভাষণের ১৩৩ বছর পর স্বামী বিবেকানন্দের বার্তা তাই কেবল ইতিহাসের অংশ নয়। বিভক্ত সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :