
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় বান্দরবান সদরের গ্রান্ডভ্যালি রেঁস্তোরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব দাবি উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বান্দরবান জেলার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ,সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহজালাল, বিশিষ্ট ঠিকাদার মোঃ মোজাফফর, ব্যবসায়ী নুরুল আলমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আয়কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয় জনগোষ্ঠী এ ধরনের সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তবে একই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হলে তা বৈষম্যের সৃষ্টি করবে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রায় ৫৪ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঙালিরা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), ইউনিসেফ এবং অক্সফোর্ড পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (ওপিএইচআই)-এর সহায়তায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বান্দরবানকে দেশের দরিদ্রতম জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বাঙালি হওয়ায় তাদের আর্থিক উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কর অব্যাহতি সুবিধা দীর্ঘ সময় ধরে চালু থাকলেও একই এলাকার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জন্য সমপর্যায়ের সুযোগ নিশ্চিত না হওয়ায় সামাজিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে বাজারফান্ড এলাকার ব্যাংক ঋণ বন্ধ থাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে বাজারফান্ডের আওতাধীন জমি রেজিস্ট্রেশন ও ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।
তারা বলেন, অতীতে বাজারফান্ড প্রশাসনের অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা এসব জায়গার বিপরীতে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এমনকি পার্বত্য চুক্তির পরও এই প্রক্রিয়া চালু ছিল। তবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে তিন পার্বত্য জেলার বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।
নেতারা বলেন, এর ফলে সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংক নতুন ঋণ প্রদান ও পুরনো ঋণ নবায়ন কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রেখেছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও কমে গেছে।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচকভাবে পড়ছে বলে তারা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাজারফান্ড সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দূর করে দ্রুত ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত পিছিয়ে পড়া বাঙালিদের জন্য আয়কর মওকুফের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
পরিশেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি তাদের দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :